হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শায়খ নাঈম কাসেমের কাছে হাওজাসমূহের পরিচালক আয়াতুল্লাহ আরাফির পাঠানো বার্তাটি লেবাননের হিজবুল্লাহর শহীদ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ এবং শহীদ সাইয়্যেদ হাশেম সাফিউদ্দিনের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া হয়েছে। বার্তাটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ হলো:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
“মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকারে সত্যনিষ্ঠ ছিল। তাদের কেউ তার অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে [শাহাদাতবরণ করেছে], আর কেউ অপেক্ষায় রয়েছে; তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেনি।” সুরা আল-আহযাব, ২৩
প্রিয় ভাই ও মুজাহিদ আলেম, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শায়খ নাঈম কাসেম,
লেবাননের হিজবুল্লাহর সম্মানিত মহাসচিব, আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন ও রক্ষা করুন।
“তোমরা যে ধৈর্য ধারণ করেছ, তার বিনিময়ে তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। কতই না উত্তম এই পরিণামের আবাস!”
১৪০৩ সালের ৬ মেহরের সেই সন্ধ্যার দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে, যেদিন ইসরায়েলি শত্রু আমেরিকার প্রকাশ্য সমর্থনে বৈরুতের দাহিয়ায় কয়েক ডজন বাঙ্কার-বিধ্বংসী বোমা নিক্ষেপ করেছিল। তারা ভেবেছিল, প্রতিরোধের সাইয়্যেদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিলে প্রতিরোধের প্রদীপও নিভিয়ে দিতে পারবে।
“তারা মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়; কিন্তু কাফিররা অপছন্দ করলেও আল্লাহ তাঁর আলো পূর্ণ করবেন।”
ইসলামী উম্মাহর শহীদদের সাইয়্যেদ, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ এবং তাঁর বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের সঙ্গী হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শহীদ সাইয়্যেদ হাশেম সাফিউদ্দিনের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে হাওজাসমূহ, শিক্ষক, আলেম ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আপনাকে পুনরায় শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ওই দুই শহীদের সম্মানিত পরিবার, গৌরবময় হিজবুল্লাহ এবং সম্মানিত লেবাননের জনগণের প্রতিও আমাদের সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
প্রথম: যে রক্ত সমীকরণকে উল্টে দিয়েছে
শত্রুরা মনে করেছিল, নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলে প্রতিরোধের কাঠামো ভেঙে পড়বে। সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি ও হাজি ইমাদ মুগনিয়েহর শাহাদাতের সময়ও তারা একই ভুল হিসাব করেছিল এবং আজও শহীদ ইমামের শাহাদাতের ঘটনায় তারা একই ভুল করছে।
কিন্তু দুই বছর পার হয়ে গেছে এবং বিশ্ব যা দেখেছে তা হলো-ধ্বংস নয়; বরং নেতৃত্বের পুনর্গঠন, ময়দানে স্থায়িত্ব ও শক্তি এবং মানুষের হৃদয় ও চিন্তায় প্রতিরোধের বয়ানের বিস্তার।
এটাই আল্লাহর সেই অপরিবর্তনীয় রীতি, যা শহীদের রক্তকে উম্মাহর জীবনের বীজে পরিণত করে:
“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে জীবিত এবং রিজিকপ্রাপ্ত।”
এবং এটাই সেই সত্য, যা শহীদ সাইয়্যেদ বারবার বলতেন: “আমরা পরাজিত হই না; আমরা বিজয়ী হলে বিজয়ী, আর শহীদ হলেও বিজয়ী।”
আজ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ কেবল একটি স্মৃতি নন; তিনি ইসলামী বিশ্বের এক চিরন্তন সত্য এবং একটি জীবনদায়ী আদর্শ। এই আদর্শ শিয়া ও লেবাননের সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের বিবেকে স্থান করে নিয়েছে।
দ্বিতীয়: প্রতিরোধের সাইয়্যেদ-একজন মুজাহিদ আলেম ও বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব
এই মহান শহীদ নাজাফ ও কোমের হাওজাসমূহে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। তিনি দেখিয়েছেন, প্রকৃত শিয়া আলেমশ্রেণি কীভাবে জ্ঞান ও কর্ম, প্রজ্ঞা ও সাহস এবং আধ্যাত্মিকতা ও রাজনীতিকে একটি ব্যক্তিত্বের মধ্যে সমন্বিত করতে পারে।
তিনি ছিলেন নৈতিক গুণাবলির প্রতীক এবং আরব ও ইসলামী মর্যাদার প্রতিচ্ছবি। তাঁর ছিল কৌশলগত প্রজ্ঞা, গভীর রাজনৈতিক উপলব্ধি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও ময়দানে সাহস। তাঁর সততার কারণে তাঁর বক্তব্য এমনকি তাঁর শত্রুদের কাছেও যুক্তির ভিত্তি হয়ে উঠত।
আমাদের সবার জন্য তাঁর বড় শিক্ষা হলো-খালি হাতে থেকেও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে ছোট সুযোগকে বৃহৎ সক্ষমতায় পরিণত করা সম্ভব।
এর রহস্য ছিল তাঁর বেলায়াতের প্রতি আনুগত্য এবং ইমাম খোমেনী (কুদ্দিসা সিররুহু) ও শহীদ ইমাম, আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর প্রতি তাঁর আন্তরিক অঙ্গীকার।
হাওজাসমূহ এমন একজন সন্তান নিয়ে গর্বিত এবং বর্তমান প্রজন্মের তালাবাদের জন্য তাঁকে “ময়দানের আলেম”-এর উজ্জ্বল আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করে।
প্রশস্ত হৃদয় ও ধৈর্য, সাহস ও বিপ্লবী-জিহাদি চেতনা, প্রজ্ঞা ও যুক্তিবোধ, জ্ঞান ও চিন্তাশীলতা, বিশ্ব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান, সংকটে নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও শক্তি সৃষ্টির ক্ষমতা, সামরিক প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতা, বেলায়াতের প্রতি আনুগত্য, বিশ্বব্যাপী চিন্তা ও সভ্যতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, আকর্ষণ ও প্রতিরোধ-এবং অস্থির, পরিশ্রমী ও অক্লান্ত আত্মা-এসব ছিল প্রতিরোধ ফ্রন্টের এই শহীদ ও দৃঢ়তার আদর্শের বিশেষ ও উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
আজ আমরা গর্বের সঙ্গে সাইয়্যেদ হাসানের আদর্শকে বস্তুবাদী পশ্চিমা সভ্যতার যুগে সমকালীন মানবতার হারানো সম্পদ হিসেবে বিশ্বের সব মুক্তিকামী মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারি।
তৃতীয়: শহীদদের কাফেলা
শহীদ সাইয়্যেদ হাশেম সাফিউদ্দিন-প্রতিরোধের সাইয়্যেদের বিশ্বস্ত ও সর্বদা সহযাত্রী-এবং এই পথে শাহাদাতবরণকারী সব কমান্ডার, যোদ্ধা ও নিরপরাধ মানুষের স্মরণে আমরা শ্রদ্ধা জানাই।
এই কাফেলা শহীদ শায়খ রাগিব হারব ও শহীদ সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি থেকে শহীদ হাজি ইমাদ মুগনিয়েহ, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ও হাজি কাসেম পর্যন্ত, প্রতিরোধ ফ্রন্টের সব শহীদের সঙ্গে মিলে জিহাদ, নিষ্ঠা, সত্যনিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার একটি অবিচ্ছিন্ন শৃঙ্খল। তাঁদের অবস্থা আল্লাহর এই বাণীরই প্রতিফলন: “তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেনি।”
চতুর্থ: আপনি ধারাবাহিকতার পতাকাবাহী
প্রতিরোধের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোতে, যখন শত্রু মনে করেছিল হিজবুল্লাহ নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে, তখন আপনি আরও কয়েকজন শক্তিশালী ও প্রজ্ঞাবান কমান্ডারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জিহাদ ও ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা এবং শহীদ মহাসচিবদের সঙ্গে তিন দশকেরও বেশি সময়ের সহযাত্রার ওপর নির্ভর করে একটি কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন এবং পতাকা সমুন্নত রাখেন।
হিজবুল্লাহর অভ্যন্তরীণ সংহতি রক্ষা ও পুনর্গঠন, লেবাননের জাতীয় ঐক্য সংরক্ষণ, শত্রুর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড ব্যর্থ করে দেওয়া, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণ এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ফ্রন্টে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা প্রশংসা ও সম্মানের যোগ্য।
হাওজাসমূহ আপনাকে একজন বিদ্বান আলেম, চিন্তাশীল লেখক ও প্রজ্ঞাবান নেতা হিসেবে জানে। আমরা আগেও যেমন ঘোষণা করেছি, সর্বশক্তি দিয়ে আপনার পাশে রয়েছি।
[মূল বার্তায়] বলা হয়েছে, শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়, ইসরায়েলের ধ্বংস, আমেরিকার পরাশক্তিগত অবস্থানের অবসান এবং পশ্চিমা সভ্যতার পতন আল্লাহর নিশ্চিত রীতি এবং প্রতিরোধ ফ্রন্ট, মহান লেবানিজ জাতি, প্রিয় হিজবুল্লাহ ও সকল মুজাহিদের অনিবার্য পরিণতি।
পঞ্চম: হিজবুল্লাহর মুজাহিদ ভাইদের উদ্দেশে
হিজবুল্লাহর কমান্ডার, কর্মকর্তা, প্রতিনিধি, যোদ্ধা এবং ত্রাণ, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক বিভাগের কর্মীদের প্রতি আমরা সালাম জানাই।
আপনারা শহীদদের সাইয়্যেদের রক্তের আমানতদার। ঈমান, শৃঙ্খলা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে আপনারা প্রমাণ করেছেন যে হিজবুল্লাহ কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং জ্ঞান, ঈমান, ইচ্ছাশক্তি ও বেলায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
গর্বিত আহতদের-বিশেষ করে পেজার বিস্ফোরণ ও সাম্প্রতিক যুদ্ধে আহতদের-প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। চোখ ও হাতের আঘাত নিয়েও তাঁরা সর্বোচ্চ দূরদর্শিতা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির পরিচয় দিয়েছেন। “নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই বিজয়ী।”
ষষ্ঠ: সম্মানিত লেবাননের জনগণ ও বিশ্বস্ত শিয়াদের উদ্দেশে
মহান লেবাননের জনগণ-বিশেষ করে দক্ষিণ, দাহিয়া ও বেকা উপত্যকার ধৈর্যশীল মানুষের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
আপনারা মর্যাদা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে বাস্তুচ্যুতি সহ্য করেছেন, ধৈর্য ও ঈমানের মাধ্যমে নিজেদের ঘরবাড়ি ধ্বংসের বেদনা অতিক্রম করেছেন এবং নিজ নিজ ভূমিতে ফিরে এসে জনগণ ও প্রতিরোধের অবিচ্ছেদ্য বন্ধনকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন।
লেবাননের শহীদদের মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানরা হযরত জয়নাব (সা.)-এর মতো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন এবং অস্ত্রের মধ্যে নয়, বরং একটি জীবন্ত জাতির ইচ্ছাশক্তির মধ্যে এই প্রতিরোধের মহত্ত্বকে অর্থবহ করে তুলেছেন।
লেবাননের শিয়ারা জাবাল আমিলের সেই আদর্শের উত্তরাধিকারী, যে আদর্শ শহীদ আউয়াল ও শহীদ সানিকে লালন করেছে এবং মুহাক্কিক কারাকি ও শায়খ বাহায়ির মতো লেবানিজ বংশোদ্ভূত আলেমদের জন্ম দিয়েছে। এর মাধ্যমে লেবানন ও ইরানের হাওজাসমূহের মধ্যে যে জ্ঞানগত ও আধ্যাত্মিক বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল, আজ তা প্রতিরোধের ময়দানে প্রতিফলিত হয়েছে।
একই সঙ্গে লেবাননের সব মুক্তিকামী মানুষ-প্রত্যেক মাজহাব ও সম্প্রদায়ের-প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা প্রতিরোধের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষা করেছেন।
জেনে রাখুন, ইতিহাসজুড়ে আপনারা আহলে বাইত (আ.)-এর শ্রেষ্ঠ আনসারদের অন্তর্ভুক্ত। আপনাদের ধৈর্য ও প্রতিরোধের বরকতে নবী ও আল্লাহর ওলিদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হওয়ার পথে রয়েছে। বিশ্ব ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন সমীকরণ পরিবর্তিত হচ্ছে। সত্য ও মিথ্যার ঐতিহাসিক সংঘাত তার পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন ইসলামী সভ্যতা গড়ে উঠছে।
এসব পরিবর্তনের প্রতিটিতেই আপনারা অংশীদার। আজ এবং ভবিষ্যতের ইতিহাস আপনাদেরই এবং আপনাদের আত্মত্যাগের কাছে ঋণী-যেমন ইরান, ইরাক ও ইয়েমেনের জনগণের আত্মত্যাগের কাছেও।
সপ্তম: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিমত্তা
আমেরিকা ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর আরোপিত যুদ্ধে ইরানি জাতি তাদের ইমাম ও নেতার শাহাদাতের শোকও বুকে ধারণ করেছে। কিন্তু যে শত্রু ইসলামী ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশায় ছিল, তারা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখেছে যে আইনসম্মত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হুসাইনি খামেনেয়ীর কাছে অর্পিত হয়েছে এবং জনগণ ঐক্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে বেলায়াতের চারপাশে সমবেত হয়েছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র এই কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আরও দৃঢ় ও সংহত হয়ে বেরিয়ে এসেছে এবং প্রতিরোধকে সাময়িক কোনো কৌশল নয়, বরং একটি কৌশলগত ও মৌলিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে।
এটি সেই সম্পর্কের সুস্পষ্ট প্রকাশ, যা কোনো চাপই দুর্বল করতে পারবে না।
আজ ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান-বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা, নিপীড়ন এবং সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, গণমাধ্যম ও তথ্যগত সর্বাত্মক চাপ সত্ত্বেও-ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত জনগণ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কর্মকর্তাবৃন্দ, সতর্ক ও শক্তিশালী কমান্ডার ও সশস্ত্র বাহিনী এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মিত্র নিয়ে পূর্ণ শক্তিতে রয়েছে এবং চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সব মুজাহিদের পাশে থেকে এটি মর্যাদা, শক্তি ও প্রজ্ঞার সঙ্গে সব বাধা ও সমস্যা অতিক্রম করবে।
অষ্টম: প্রতিরোধের বিভিন্ন অঙ্গনের ঐক্য-একটি কৌশলগত বাস্তবতা
শত্রু সবসময় প্রতিরোধের বিভিন্ন অঙ্গনকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছে, যাতে প্রত্যেকটিকে একাকী অবস্থায় নতজানু করা যায়।
কিন্তু গত দুই বছরের ঘটনাবলি দেখিয়ে দিয়েছে যে, তেহরান থেকে বৈরুত এবং গাজা থেকে সানা ও বাগদাদ, হরমুজ প্রণালী থেকে বাব আল-মন্দব পর্যন্ত প্রতিরোধের বিভিন্ন অঙ্গন একটি অভিন্ন ফ্রন্টের বিচিত্র প্রকাশ।
এই ঐক্য কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক সম্পর্ক নয়; বরং অভিন্ন ঈমান, অভিন্ন শত্রু ও অভিন্ন আদর্শ থেকে উৎসারিত একটি বন্ধন। এতে প্রতিটি অঙ্গ নিজস্ব ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একই পথে এবং নিজ নিজ জাতীয় কৌশলগত স্বার্থ, বাস্তব ও প্রত্যক্ষ আঞ্চলিক স্বার্থ এবং ইসলামী উম্মাহর বৃহত্তর কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যায়।
হিজবুল্লাহর শহীদদের রক্তের পাশে ইরানি শহীদ কমান্ডারদের রক্ত ঝরে পড়া এই বন্ধনেরই প্রতীক। “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে এমনভাবে যুদ্ধ করে, যেন তারা সীসা ঢালা সুদৃঢ় প্রাচীর।”
নবম: হাওজাসমূহের অঙ্গীকার
হাওজাসমূহ-যারই একজন গৌরবময় সন্তান ছিলেন শহীদ সাইয়্যেদ-তাঁর পথের সঙ্গে নিজেদের অঙ্গীকারে অটল রয়েছে।
শহীদের চিন্তাগত উত্তরাধিকার সংরক্ষণ ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে-ফিকহ, রাজনৈতিক চিন্তা, ব্যবস্থাপনা ও জিহাদের নৈতিকতা; বিভিন্ন ভাষায় এই উত্তরাধিকার অনুবাদ ও প্রকাশ; লেবাননের হাওজা ও আলেমদের সঙ্গে জ্ঞানগত সম্পর্ক বিস্তৃত করা; এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টকে যেকোনো ধরনের জ্ঞানগত, আধ্যাত্মিক ও প্রচারমূলক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের দায়িত্ব পালনে হাওজাসমূহ প্রস্তুত রয়েছে।
পরিশেষে আমরা ইসলামী উম্মাহর শহীদদের সাইয়্যেদ এবং প্রতিরোধের সব শহীদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানাই। আপনাকে এবং হিজবুল্লাহর সব মুজাহিদ ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে সাফল্য, সুস্থতা, দৃঢ়তা ও বিজয় কামনা করি।
এই প্রত্যাশায় যে, এই শহীদদের রক্তের বরকতে পবিত্র কুদস মুক্ত হবে এবং আল্লাহর সত্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।
সম্মানিত হিজবুল্লাহ, মর্যাদাশীল লেবাননের শিয়া ও মুসলিমগণ এবং সমগ্র ইসলামী উম্মাহর প্রতি আল্লাহর সালাম, রহমত, সর্বোত্তম অনুগ্রহ ও ব্যাপক দয়া বর্ষিত হোক। “আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে জীবিত এবং রিজিকপ্রাপ্ত।” সুরা আলে ইমরান, ১৬৯
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
আলীরেজা আরাফি
আপনার কমেন্ট